দুই বছর থেকে ফাইনাল পরীক্ষাগুলাতে কোন না কোন ঘটনা ঘটটিছে। গত বছর যেটা ঘটছে সেটা ছিল #chain_misunderstanding
পরীক্ষার হলে বসে আছি খাতা সামনে নিয়ে। ঘণ্টা পড়বে পড়বে প্রশ্ন দিবে দিবে এমন একটা সময়। বসে বসে মনে মনে পড়াগুলা একবার ঝালাই করে নিচ্ছিলাম।
এ সময় ব্রেঞ্ছটা একটু নড়ে উঠল। পাশে বসে পা নাড়ালে একটা ব্রেঞ্ছ যেভাবে নড়ে সেভাবে। পাত্তা দিলাম না। কয়েক সেকেন্ড বিরতি দিয়ে আবার। এইবার পাশে বসা মেয়েটার দিকে বিরক্তি নিয়ে তাকালাম। মেয়েটাও সমান বিরক্তি নিয়ে আমার দিকে তাকাল। তারপর বিরক্তির কারণে ছোট হয়ে যাওয়া চোখ দুইটা আপনা আপনিই বড় হয়ে গেল। #ভূমিকম্প !!! তারপর জড়ে একটা ঝাকি লাগলো। হ্যাঁ ভূমিকম্পই। প্রথমে সবাই আতঙ্কিত হলেও পরে পুরা ক্লাসে একটা হাসির চেইন একশন শুরু হইলো। বুঝলাম ভুল আমি একা করি নাই। সবাই করছে।
ঘটনাটা হলের বাইরে। তখনও গেট খুলে নাই। তাই কোথাও বসে পড়ার জন্য ফুটপাতই একমাত্র ভরসা। পরীক্ষার আগে সেই ফুটপাতের একাংশে বসে পড়তেছিলাম…… আসলে পড়তেছিলাম কম রাস্তার গাড়ি দেখতেছিলাম বেশি। হঠাৎ করে আমার ডান পাশে একটা উত্তেজনা লক্ষ্য করলাম। ………….কিরে কেউ এক্সিডেন্ট করলো নাকি……… কিন্তু সবাই এদিকে দৌড়ায় আসতিছে কেন? তখনই শোনা গেল “বিল্ডিং নড়তিছে…… ভেঙ্গে পড়বে”
আমি যেহেতু বসে ছিলাম বিল্ডিঙের ঠিক নীচেই সুতরাং একশনটাই জরুরী মনে হইলো। পরে নিরাপদ দূরততে এসে বিল্ডিঙের দিকে তাকায় একটা ছোট বাচ্ছার দাঁতের কথা মনে পড়লো। যার উপরের পাটির একটা দাঁতও নাই আর নিচের পাটির দুই তিনটা দাঁত পড়বে পড়বে অবস্থা। তারপর আকাশের দিকে তাকালাম। আকাশে অনেক মেঘ ছিল। মেঘগুলা নড়তিছিল। ভাবলাম কেউ হয়তো সেটা দেখে মনে করছে যে বিল্ডিঙটা নড়তিছে!! এটা ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার।
ও হ্যাঁ বিল্ডিঙটা কিন্তু এখনো বহাল তরবিয়তেই আছে।

No comments:
Post a Comment